সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সম্পর্কে বাবা ও মেয়ের মধ্যে সংলাপ রচনা করো।
বাবা : কোথায় যাচ্ছিলে মা?
তানিয়া : চন্দনাদের বাড়িতে বাবা।
বাবা : হঠাৎ ওদের বাড়িতে কেন?
তানিয়া : না, মানে, ওদের বাড়িতে আজ পূজা তো.., আমাকে দাওয়াত
করেছে?
বাবা : কী বললি? তুই পূজার দাওয়াতে যাচ্ছিস? মুসলমানের মেয়ে
হয়ে হিন্দুদের পূজাতে যাচ্ছিস তুই?
তানিয়া : তাতে তো কোনো সমস্যা থাকার কথা নয় বাবা। এক ধর্মের
মানুষের সঙ্গে কি অন্য ধর্মের মানুষের বন্ধুত্ব হতে পারে না?
বাবা : তা পারে।
তানিয়া : তাহলে কি একজন বন্ধু তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অন্য
বন্ধুকে নিমন্ত্রণ করতে পারে না?
বাবা : পারে। কিন্তু মুসলমান হয়ে হিন্দুদের পূজাতে যাওয়া
হারাম। তুই ওখানে যেতে পারবি না।
তানিয়া : কেন বাবা? এই দেশে আমরা যারা বাস করছি, তাদের সবাই
বাঙালি । একের উৎসব মানে সবার উৎসব। এই উৎসবকে তুমি কেন সম্প্রদায়ের সাথে
মিলিয়ে নিচ্ছ? আমাদের ঈদের দিনে কি ওরা আসে না?
বাবা : তা আসে।
তানিয়া : তাহলে আমি গেলে সমস্যা কোথায়? আমাদের সমস্যাটা
এখানেই। আমরা জাতি-ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠতে পারি না। এই সাম্প্রদায়িক গণ্ডি
অতিক্রম করতে না পারা পর্যন্ত আমাদের অধঃপতন হতেই থাকবে। আর আমি হিন্দু ধর্ম পালন করার জন্য যাচ্ছি না, ওদের ধর্ম ওরা পালন করবে, আমি যাচ্ছি শুধু সামাজিক দায়িত্ব ও বন্ধুত্বের সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য।
বাবা : তুই কি আমাকে জ্ঞান দিচ্ছিস?
তানিয়া : না বাবা। তোমাকে জ্ঞান দেয়ার মতো জ্ঞান আমার হয়নি।
আমি শুধু বোঝাতে চাচ্ছি, ধর্ম হলো মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের এক গোপন
অনুভূতি। কিন্তু সমাজ অন্য জিনিস। সমাজে চলতে গেলে নানা ধর্মের মানুষের সাথে
মিলেমিশে থাকতে হয়। একের উৎসবে অপরকে যেতে হয়। আমি এখন যাই বাবা। তোমার সাথে
পরে এসে কথা বলব।